মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

৪শ' বছরের পুরনো মসজিদ (টাঙ্গাইল জেলার পাছরাচান গ্রামে )

ধরণ

মসজিদ

ইতিহাস

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই নতুন বা পুরনো অনেক মসজিদ চোখে পড়ে। এসবকে জড়িয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস। ঢাকার অদূরে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার পাছরাচান গ্রামে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রায় ৪শ' বছরের পুরনো দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। এর অবস্থান কালিহাতী বল্লা সড়কের দক্ষিণে ঐতিহাসিক চারান বিলের উত্তরে।
মসজিদটি কত সালে নির্মাণ করা হয়েছিল তার সঠিক কোনো তথ্য আজও মেলেনি। আঠার শতকের শেষের দিকে ইসলাম ধর্ম রক্ষার্থে শত্রুদের মোকাবিলা করতে প্রচুর মুসল্লিদের সমাগম হয় পাছ চারান গ্রাম ও এর আশপাশের স্থানে। ধারণা করা হয় ওই সময়ে যারা এখানে আশ্রয় বা অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের দ্বারাই নির্মিত হয় মসজিদটি। এমনও ধারণা করা হয় মসজিদটি মুগলদের দ্বারা নির্মিত হয়েছে। এলাকার প্রবীণরাও তাদের পূর্বপুরুষের কাছে এটি নির্মাণের সঠিক সাল বা বছর জানতে পারেননি।
জমিদারি আমলে রাহাতুন্নিসা চোধুরাণী ছিলেন ওই এলাকার জমিদার। দেলদুয়ার জমিদারদের বংশধর ছিলেন তিনি। জমিদার বাড়ি ছিল মসজিদের উত্তর পাশে। জমিদার প্রথা শেষ হলে ১৯৬২ সালে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে দুই একর ৬৭ শতাংশ জমি পত্তন আনা হয়। যার মধ্যে ছিল ওই মসজিদটিও। পরবর্তীতে মসজিদের ১৪ শতাংশ এবং তার সামনের ৫৩ শতাংশ মাঠ মসজিদে ওয়াকফ করে দেওয়া হয় ১৯৮৭ সালে। ওই সময় মসজিদটির বযস দেখানো হয়েছিল পৌনে ৪শ' বছর। মসজিদটির সঠিক বয়স নিয়ে বিতর্ক থাকলেও প্রাচীনতম ও ঐতিহ্য হিসেবে এটি টাঙ্গাইলের যে গর্ব তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর কারুকার্য খুবই নিপুণ। এর আছে একটিমাত্র গম্বুজ। এজন্য এটিকে এক গম্বুজ মজসিদও বলা হয়। এর মূল স্থাপনাটি তৈরি করা হয়েছে চারটি খুঁটির ওপর। লাগানো হয়েছে চুন-সুরকি।
মসজিদটি প্রায় বর্গাকার। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ হাত এবং প্রস্থ প্রায় সাড়ে ১০ হাত। প্রতিটি দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় তিন হাত। মূল স্থাপনার মেঝে আবৃত মার্বেল পাথর দ্বারা। জানা যায়, স্যার আবদুল করীম গজনবী জীবনের শেষ প্রান্তে যখন ধর্মে-কর্মে মনোযোগী হন তখন তিনি মসজিদটির মেঝে আবৃত করে দেন পাথর দিয়ে। অনেক লতাপাতা খচিত কারুকার্য রয়েছে খিলানের ওপরের দেয়ালে। এগুলো দৃষ্টিনন্দন বলে সবার নজর কাড়ে। বর্তমানে মসজিদটির রয়েছে দু'টি দরজা। উত্তরের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় ১৯৯০ সালে সংস্কারের সময়। পাশাপাশি একটি কক্ষও বানানো হয় ইমাম সাহেবের জন্য। এর সর্বশেষ সংস্কার কাজ চলে ২০০৫ সালে। তখন ছাদওয়ালা একটি বারান্দা করা হয় মসজিদটির সামনে। বর্তমানে মসজিদটির সংস্কার খুবই জরুরি। না হলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এতে নামাজ আদায় প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। মসজিদটির বিভিন্ন স্থানে শেওলা জমে তা আরো দুর্বল করে দিচ্ছে। স্থানীয়রা এজন্য দানশীল মানুষ ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন।

যোগাযোগ

ঢাকার অদূরে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার পাছরাচান গ্রামে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রায় ৪শ' বছরের পুরনো দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। এর অবস্থান কালিহাতী বল্লা সড়কের দক্ষিণে ঐতিহাসিক চারান বিলের উত্তরে।