মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ব্যানার (বিশ্ববিদ্যালয়,নবাব প্যালেস,করটিয়ার ঐতিহ্য)

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত১২ অক্টোবর, ১৯৯৯
ধরনসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
আচার্যরাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্যঅধ্যাপক ড. মোঃ আলাউদ্দিন
ছাত্র১৭০০
স্নাতক১৫০০
স্নাতকোত্তর২০০
অবস্থানটাঙ্গাইল, বাংলাদেশ
ক্যাম্পাস৫৭ একর (২৩০৬৭০.৮১৬ বর্গমিটার)
ডাকনামমাভাবিপ্রবি / MBSTU
অন্তর্ভুক্তিবিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েব সাইটhttp://mbstu.ac.bd/

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Mawlana Bhashani Science and Technology University) বাংলাদেশের অন্যতম সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৯ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত টাঙ্গাইলের সন্তোষে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশের কিংবদন্তী রাজনৈতিক নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামানুসারে। এখানকার পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি। পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য এখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রতি বছর স্নাতক পর্যায়ে প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়। শিক্ষকের সংখ্যা সাকল্যে ১৫০ জন। গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত প্রভুত উন্নতি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে নতুন এ্যাকাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য বেশ কয়েকটি আবাসিক হল ইত্যাদির কথা।

ইতিহাস

আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে শিক্ষার্থীদের সর্বাধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ১৯৯৯ সালে মাওলানা ভাসানীর বহু স্মৃতিধন্য টাঙ্গাইলের সন্তোষে প্রতিষ্ঠিত হয়। আজকের মাভাবিপ্রবি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর-ই স্বপ্নের ফল। এখানে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে শিক্ষা দেয়া হয় যাতে তারা মাওলানা ভাসানীর নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক জীবনাদর্শ সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারে। একইসাথে তারা যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্পর্কের ভিত্তিতে অর্জিত সত্যিকার মানবীয় গুণাবলি নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে সেদিকেও নজর রাখা হয়।

২০০২ সালের ২১ নভেম্বর অধ্যাপক ড. মোঃ ইউসুফ শরীফ আহমেদ খান বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। আর এভাবেই কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল) অনুষদের অধীনে মাত্র দুটি বিভাগ - কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল) এবং ইনফরমেশন এ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) নিয়ে মাভাবিপ্রবির দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর মাভাবিপ্রবির শিক্ষায়তনিক কার্যক্রম শুরু হয় কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের সর্বমোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৫ জন শিক্ষক নিয়ে। প্রায় ৮ মাসের শিক্ষায়তনিক সময় পর দুটি নতুন বিভাগ - এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (পরিবেশবিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যাবস্থাপনা) এবং ক্রিমিনোলজি এ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স (অপরাধবিদ্যা ও পুলিশবিজ্ঞান) খোলা হয় নতুন একটি অনুষদ, লাইফ সায়েন্স অনুষদের অধীনে।

২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে আরো নতুন তিনটি বিভাগ খোলা হয়। এগুলো হল - কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল) অনুষদের অধীনে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (বস্ত্রপ্রকৌশল), লাইফ সায়েন্স অনুষদের অধীনে বায়োটেকনোলজি এ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (জৈবপ্রযুক্তি ও বংশগতি প্রকৌশল) এবং ফুড টেকনোলজি এ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (খাদ্যপ্রযুক্তি ও পুষ্টিবিজ্ঞান)

২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আরো চারটি বিভাগ যুক্ত হয় সম্পূর্ণ নতুন দুটি অনুষদ - ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ এবং সাধারণ বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে। নতুন বিভাগগুলো হল ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে ব্যচেলর অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) (ব্যবসায় প্রশাসন স্নাতক); সাধারণ বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে গণিত ও পরিসংখ্যান, রসায়ন এবং পদার্থবিজ্ঞান। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ হতে যাত্রা করেছে নতুন আরো একটি বিভাগ - অর্থনীতি বিভাগ। এই অর্থনীতি বিভাগ যাত্রা করেছে নতুন একটি অনুষদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে - সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ।

ক্যাম্পাস

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অবস্থান টাঙ্গাইলের উত্তর-পশ্চিমে মাওলানা ভাসানীর বহু স্মৃতিধন্য সন্তোষ নামক স্থানের মনোরম নৈসর্গিক পরিবেশে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের অধিভুক্ত জায়গার পরিমাণ প্রায় ৫৭ একর বা ২৩০৬৭০.৮১৬ বর্গমিটার। এই জায়গার ভেতরই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অনুষদ, প্রশাসনিক ভবন, পাঁচটি আবাসিক শিক্ষার্থী হল, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ ইত্যাদি অবস্থিত। এছাড়া ক্যাম্পাসের অধিভুক্ত জায়গার ভেতরই মাওলানা ভাসানীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মিত ঐতিহাসিক দরবার হল, প্রখ্যাত সুফি সাধক পীর শাহ জামানের নামানুসারে পীর শাহ জামান দীঘি, মাওলানা ভাসানীমাজার, একটি মসজিদসহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এই অধিভুক্ত জায়গা ছাড়াও সন্তোষের অদূরে হ্রদখোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-সম্পত্তি রয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের আবাসন প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন।

 

নবাব প্যালেস -

ধনবাড়ি উপজেলার অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন হলো নবাব মঞ্জিল। চার গম্বুজ বিশিষ্ট অপূর্ব স্থাপত্য রীতির শতাব্দী প্রাচীন এই নবাব প্যালেসটি পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। প্রাচীর ঘেরা নবাব মঞ্জিল বা নবাব প্যালেস এবং নবাব কাচারিকে বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।

প্রাসাদটি দক্ষিণমুখী এবং ৬০.৯৬ মিটার (২০০ ফুট) দীর্ঘ বারান্দা সম্বলিত। ভবনটির ফাসাদের মূল প্রবেশপথ এ ইমারতটিকে অসম দু’টি ভাগে বিভক্ত করেছে। প্রবেশপথের পূর্ব পাশ, পশ্চিম পাশ অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর। প্রবেশ তোরণটি করিন্থিয়ান চূড়াসহ একজোড়া আয়তাকার পিলাস্টারে গঠিত এবং অলংকৃত ফ্রিজ, তদুর্ধ্বে সম্প্রসারিত কার্নিশের উপর মারলন নকশা ও সবশেষে ঊর্ধ্বে দু’টি ছত্রী দ্বারা সুশোভিত। ভবনটির ৪.৫৭ মিটার (১৫ ফুট) প্রশস্ত বারান্দা জোড়া করিন্থিয়ান কলামের সমন্বয়ে অর্ধবৃত্তাকার খিলানে গঠিত। কার্নিশের নিচের ফ্রিজের লতাপাতার নকশা, মারলন সম্বলিত প্যারাপেট ও ছত্রী এ প্রাসাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। ভবনটি চারটি বৃহৎ হল কক্ষ এবং কতগুলো ক্ষুদ্রাকার কক্ষ সমন্বয়ে গঠিত। খিলানের উপরিভাগ লাল, সবুজ ও হলুদ কাচ দ্বারা অলংকৃত। কোনো কোনোটি ফুলের আকৃতির নকশা বহন করছে। ভবনের পূর্বদিকে বড় একটি তোরণ রয়েছে। তোরণের উভয় পাশে প্রহরীদের জন্য দু’টি কক্ষ রয়েছে। তোরণটি বহু খাঁজবিশিষ্ট খিলানসম্বলিত এবং তোরণের চূড়া দোচালা আকৃতির। তোরণটি জমিদার নওয়াব আলী চৌধুরী ব্রিটিশ গভর্নরকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য নির্মাণ করেন। উল্লেখ্য ১৯১৯ সালে ভারতের লর্ড রোনালসে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর আমন্ত্রণে ধনবাড়ি আসেন। তিনি স্টিমারে বৈরান নদীর কয়ডা ঘাটে এসে নামেন। সেখান থেকে তাকে ৩০টি হাতির বহরের শোভাযাত্রায় ধনবাড়ির নবাব প্যালেসে নেয়া হয়।

নবাব প্যালেস প্রধান ভবনের তোরণের ডানপাশে রয়েছে একটি ত্রিতল ভবন। এর ফাসাদ ৫৩.৯৫ মিটার (১৭৭ ফুট) দীর্ঘ এবং ৩.০৫ মিটার (১০ ফুট) প্রশস্ত বারান্দাসম্বলিত। ভবনটি বিগত শতকের মধ্যভাগে নির্মিত হলেও এতে ইউরোপীয় এবং স্থানীয় স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য ও উপকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন লক্ষ করা যায়। ভবনটিতে তেরোটি কক্ষ রয়েছে। কাচারি ভবনের বারান্দাটি ষোল জোড়া করিন্থিয়ান কলামের সমন্বয়ে অর্ধবৃত্তাকার বহুখাঁজ বিশিষ্ট খিলান সমন্বয়ে নির্মিত। প্রাচীরঘেরা চত্বর অংশে আবাসিক ভবন দু’টি ছাড়া আরও আছে ফুলের বাগান, চিড়িয়াখানা, বৈঠকখানা, গোমস্তাঘর, নায়েবঘর, কাচারিঘর, পাইকপেয়াদা বসতি এবং দাস-দাসী চত্বর।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও বিবরণ

নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর প্রথম পুরুষ শাহ আতিকুল্লাহ, বাগদাদ হতে দিল্লীতে আসেন । তৎকালীন দিল্লীর বাদশাহ তাঁর কাছে মুরীদ হন এবং তৎকালীন পূর্ব বাংলায় বসবাসের জন্য জায়গীর প্রদান করেন । প্রথমে তিনি পাবনা জেলার নাকালিয়াতে বসবাস করতে থাকেন । পরবর্তী বংশধরগণ নাকালিয়া হতে ঢাকা জেলার হাসমিলানে চলে আসেন । শাহ আতিকুল্লাহ‘র অধঃস্তন বংশধর শাহ সৈয়দ খোদাবখশ। তাঁর এক ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ শাহ , এক মেয়ে সাইয়িদা তালিবুন নেছা চৌধুরানী । পাঠানদের পতনের যুগে সেলযুগ তুর্কীদের জমিদারী ছিল ধনবাড়ীতে । এ বংশের উত্তর পুরুষ ছিলেন রাজা আলী খাঁ সাহেব । রাজা আলী বিয়ে করেন শাহ্ সৈয়দ খোদবখশ এর কন্যা সাইয়েদা তালিবুন নেছা চৌধুরানীকে । তিনি শাহ আতিকুল্লাহ এর বংশধর। রাজা আলী খাঁ নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে তাঁর স্ত্রী শাহ্ সৈয়দ খোদাবখশ কে ধনবাড়ী জমিদারীতে নিয়ে আসেন । পরবর্তীতে তিনি রাজ আলী খাঁন সাহেবের জামিদারীর মালিক হন । শাহ সৈয়দ খোদাবখশের পুত্র সৈয়দ মাহমুদ শাহ এ বংশের শ্রেষ্ঠ অলি ছিলেন । তাঁর মাজার ধনবাড়ীতে অবস্থিত । সৈয়দ মাহমুদ শাহ (রহঃ) এর ছেলে সৈয়দ জনাব আলী চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী খুব অল্প বয়সেই মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র ছেলে সৈয়দ নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী এবং একমাত্র কন্যা সাইয়েদা সায়েরা খাতুন চৌধুরা্ণী রেখে যান। জনাব নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী বগুড়ার নবাব আব্দুস সোবহান সাহেবের কন্যা আলতাফুননাহারকে বিয়ে করেন। এই স্ত্রী নিঃসন্তান ছিলেন । সৈয়দা আলতাফুন নাহার চৌধুরাণীর মুত্যুর পর তিনি ইতিহাস বিখ্যাত ঈসা খাঁর শেষ বংশধর সাইয়েদা আকতার খাতুনকে বিয়ে করেন । সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরী প্রণীত ওয়াকফ নামায় বলা হয় ইমাম আজম আবু হানিফা (রহঃ) ও শাহ আব্দুল কাদের জ্বিলানী (রহঃ)এ বংশেরই লোক ছিলেন । তৃতীয় স্ত্রী সৈয়দা সাকিনা খাতুন চৌধুরাণী একমাত্র ছেলে সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী ও এক মেয়ে উম্মে ফাতেমা হুমায়রা খাতুন । নবাবজাদা হাসান আলী চৌধুরী ১৯৬২-৬৩ সনে তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের শিল্প মন্ত্রী ছিলেন । এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮১ সনে ৩০ মে মৃত্যবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর একমাত্র কন্যা সৈয়দা আশিকা আকবর ১৯৮১ সানে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে নওয়াব আলী খোদা বখশ ধনবাড়ী ওয়াকফ এস্টেটের মোতায়াল্লী। ধনবাড়ী জমিদারবাড়ী জামে মসজিদের সম্মুখ অংশে সৈয়দ নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর কবর স্থান। যেখানে দিবারাত্রি পবিত্র কোর‘আন তেলাওয়াত হয়ে থাকে ।

যাতায়াত ব্যবস্থা

টাঙ্গাইল জেলার ঐতিহ্যবাহী ধনবাড়ী জেলার উত্তর প্রান্তে টাঙ্গাইল হতে ৬০ কিঃ মিঃ দূরে ঢাকা- জামালপুর মহা-সড়কের সন্নিকটে অবস্থিত। ধনবাড়ী বাস স্টেশন হতে মাত্র ১৫০ গজ দূরে ধনবাড়ী জমিদার বাড়ী অবস্থিত । ঢাকা হতে সড়ক পথে মাত্র- ৩ হতে ৩.৩০ ঘন্টায় ধনবাড়ী পৌছানো সম্ভব। পাবলিক বাসে ৪ ঘন্টা সময়ে মাত্র ১২০ টাকা ভাড়ায় অতি সহজে পৌছানো যায় । বর্তমানে উহা নবাব আলী হাসান আলী রয়েল রিসোর্ট সেন্টার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। পর্যটকদের জন্য এখানে কটেজ, সহ ১৩ টি কক্ষে থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের সহযোগিতার জন্য ম্যানেজার সহ বেশ কিছু কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে। এই জমিদার বাড়ীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই যে, এখানে মোঘল আমলের যে স্থাপত্য ও নিদর্শন তা অক্ষত অবস্থায় রয়ে গেছে অথচ অনেক জমিদার বাড়ী রক্ষণাবেক্ষণ ও যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণএর অভাবে ধ্বংস স্ত্তপে পরিণত হয়েছে। অত্যাশ্চর্যের বিষয়, এখনো এসব স্থাপনার কিছু কিছু অংশ ঝকঝক-তকতক করছে এবং ১৯২৯সালে সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরীর ওয়াফাতের পর অদ্যাবধি তাঁর সমাধি স্থলে নিবরচ্ছিন্ন ভাবে কোরান শরীফ পাঠ করা হয়। একটানা ৮০ বছর (প্রায়) যাবৎ নিয়মিতভাবে ও প্রতিদিন পবিত্র কোরান পাঠ ও ঝকঝক নিদর্শন পর্যটকসহ সকলকে বিস্মিত না করে পারে না।